পিণ্ডদানের সামগ্রী ও পরিবারের প্রস্তুতি
| পূজার উপকরণ | পরিবার সঙ্গে কী আনবেন |
|---|---|
| চাল বা যব, কালো তিল ও কুশ | কর্তার নাম, পূর্বপুরুষদের নাম এবং জানা থাকলে গোত্র |
| বিধি অনুযায়ী জল, দুধ, মধু ও ঘি | পূজার পোশাক এবং স্নানের পরে বদলানোর শুকনো পোশাক |
| ফুল, বস্ত্র ও বিধির অন্য উপকরণ | জানা থাকলে মৃত্যুতিথি ও পারিবারিক রীতির বিবরণ |
বায়ুর সঙ্গে পিণ্ডদানের বুকিং করলে গয়ার পূজার সামগ্রী এখানেই প্রস্তুত রাখা হয়। ওই পূজার চাল, তিল, কুশ বা ঘি বাড়ি থেকে বয়ে আনার দরকার নেই। বাড়ি থেকে রওনা হওয়ার আগে পিতৃ আবাহনের প্রস্তুতি আলাদা; তার সামগ্রী ও বিধি বায়ুর কাছে জেনে নিন।
পূর্বপুরুষদের নাম, সম্পর্ক ও জানা থাকলে গোত্র, উপযুক্ত পোশাক এবং আলোচিত পারিবারিক সামগ্রী রাখুন। বাড়ির পিতৃ আবাহন, নারকেল ও কাপড়ের পুঁটলির প্রয়োজন আলাদা করে বুঝিয়ে দিই। গয়ায় সামগ্রী দেওয়া মানে বাড়ির প্রস্তুতি বাদ দেওয়া নয়। যাত্রা ও প্রস্তুতির বিবরণ দেখুন।
উপকরণের পরিমাণ নির্বাচিত বিধি অনুযায়ী ঠিক হয়। পরে প্রতিটি উপকরণের ব্যবহার ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূজার খরচ ও কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেখে নিন।

পিণ্ড কী দিয়ে তৈরি হয়
পিণ্ড সাধারণত রান্না করা ভাত বা যবের আটা দিয়ে হাতে তৈরি করা হয়। বিধি অনুযায়ী কালো তিল মেশানো হয় অথবা সঙ্গে নিবেদন করা হয়। পূজার বিভিন্ন পর্যায়ে মধু, দুধ, ঘি ও জলও ব্যবহার করা হয়।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় পিণ্ডকে প্রয়াতজনের উদ্দেশে অন্ন ও প্রতীকী দেহের নিবেদন হিসেবে দেখা হয়। অনেক পদ্ধতিতে কর্তা নিজের হাতে পিণ্ড তৈরি করেন।
চাল না যব, কোন উপকরণ কখন মেশাতে হবে-এ নিয়ে আঞ্চলিক পার্থক্য আছে। পাণ্ডাজির নির্দেশ অনুসরণ করুন এবং বাড়ির বিশেষ রীতি থাকলে আগে জানান।
কুশ: আসন ও পবিত্রী
কুশ এক ধরনের ঘাস, যা ধর্মীয় আচারে পবিত্র উপকরণ বলে মানা হয়। পিণ্ড রাখার আসন এবং আচারকালীন আংটি তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে।
কুশের আংটিকে পবিত্রী বলা হয়। এটি ডান হাতের অনামিকায় পরা হয়। তর্পণের সময় জল ও কালো তিলের সঙ্গে কুশও হাতে নেওয়া হয়। পুরোহিত এর ব্যবহার দেখিয়ে দেন।
শ্রাদ্ধে পূর্বপুরুষদের আহ্বান ও পূজার জন্য কুশের আসন প্রস্তুত করা হয়। এই আসনের বিশেষ ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে।
কালো তিল ও জল
তর্পণে পূর্বপুরুষের নাম করে জল নিবেদন করা হয়। কালো তিল ও কুশ এর পরিচিত উপকরণ; গয়ায় ফল্গুর তীরে এই আচার করা হয়।
পিতৃকর্মে তিলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পিণ্ড, তর্পণ ও দানে এর ব্যবহার পরম্পরার অংশ।
ফল্গুর জল ও ঘাটের পরিস্থিতি ঋতু ও স্থানীয় ব্যবস্থার সঙ্গে বদলাতে পারে। কোথায় স্নান বা তর্পণ করবেন, সেদিনের উপযুক্ত স্থান বায়ুর কাছে জেনে নিন।
ফুল, বস্ত্র ও পৈতে
সংকল্প ও নিবেদনে ফুল ব্যবহৃত হয়। কী ফুল লাগবে এবং তুলসীপাতা, ধূপ বা প্রদীপের প্রয়োজন হবে কি না, তা আচারের বিধি অনুযায়ী ঠিক করা হয়।
পূজায় বস্ত্রের ব্যবহার মূলত দুই রকম। পূজার স্থানে বিছানো বা নিবেদনের জন্য কাপড় লাগে। এ ছাড়া অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের প্রথা ও সামর্থ্য অনুযায়ী বস্ত্রদান করা হয়।
যাঁদের পৈতে পরার পারিবারিক বিধি আছে, তাঁদের পিতৃকর্মের সময় নির্দিষ্টভাবে তা রাখতে হয়। পৈতে না থাকলে বা নিয়ম জানা না থাকলে আগে বায়ুকে জানান।
আচারসামগ্রী ও দানের পার্থক্য
আচারসামগ্রী দিয়ে অনুষ্ঠান করা হয়; দান হল প্রয়াতজনের স্মরণে বস্ত্র, অন্ন বা অন্য কিছু প্রদান। কোনটি খরচের মধ্যে আছে, তা আলাদা করে বুঝুন।
ব্রাহ্মণভোজন, অন্নদান বা গোদান কিছু পরিবারের রীতির অংশ। কোন ব্যবস্থা বাস্তবে করা হবে এবং কীভাবে হবে, আগে জেনে নিন।
দানের পরিমাণ পরিবারের ইচ্ছা, সামর্থ্য ও প্রথা অনুযায়ী স্থির করুন। কোন দান কীভাবে করতে চান, তা আগে পুরোহিতকে জানালে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হয়।
পরিবারের কী প্রস্তুতি দরকার?
প্রয়াতজন ও পূর্বপুরুষের নাম এবং সম্পর্ক লিখে আনুন। পিতৃকুল ও মাতৃকুলের কার কার নাম নেওয়া হবে, বাড়ির বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আগে আলোচনা করুন।
কর্তার নাম ও গোত্র লিখে রাখুন। যাঁর জন্য আচার হবে, তাঁর মৃত্যুতিথি জানা থাকলে সেটিও লিখুন। গোত্র না জানা থাকলে আগে বলুন; কোনও বিকল্প সংকল্প ব্যবহার হবে কি না, তা পুরোহিত ঠিক করবেন।
পূজার জন্য নতুন পোশাক আনুন, যাতে কোথাও কালো রঙের সুতো না থাকে। পুরুষেরা সাধারণত ধুতি ও গামছা এবং মহিলারা শাড়ি বা সালোয়ার পরেন। প্রতিটি পূজার জন্য আলাদা এক প্রস্থ রাখুন, কারণ পূজায় পরা কাপড় গয়াতেই রেখে আসার প্রথা রয়েছে। স্নানের পরে বদলানোর জন্য শুকনো পোশাকও আনুন। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে পূজা করলে গাঁটছড়ার জন্য একটি লম্বা ওড়না বা উত্তরীয় রাখুন।
বাড়ির বিশেষ রীতি বা কোনও উপকরণ নিয়ে আসার প্রথা থাকলে পরিকল্পনার সময় জানান। স্থানীয় পদ্ধতি আলাদা হলে তার কারণ বুঝে নিন; প্রশ্ন করতে সংকোচ করবেন না।
বেদিতে পৌঁছে অতিরিক্ত কেনাকাটার আগে
ঘাট বা মন্দিরের কাছে কেউ নতুন সামগ্রী কিনতে বললে আপনার নির্ধারিত তালিকায় সেটি আছে কি না যাচাই করুন। সঙ্গে সব প্রয়োজনীয় জিনিস থাকলে আবার কেনার দরকার নেই।
নিজের পাণ্ডাজিকে জিজ্ঞেস করে সিদ্ধান্ত নিন। সম্ভব হলে পরিবারের একজন সদস্য খরচ ও বাইরের কথাবার্তা সামলান, যাতে কর্তার মনোযোগে ব্যাঘাত না ঘটে।
কোনও সামগ্রী কেনার আগে তার ব্যবহার ও দাম জেনে নিন। এতে প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যবস্থা করা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়ানো সহজ হয়।
অনুষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী সামগ্রী বদলায়
এক দিনের গয়াশ্রাদ্ধ ও বহু বেদির বিস্তৃত সূচির আয়োজন এক নয়। দিন বা বেদির সংখ্যা বাড়লে বেশি সামগ্রী ও তা নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থাও লাগতে পারে।
ত্রিপিণ্ডী, নারায়ণ বলি ও একোদ্দিষ্টের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি আলাদা; তাই উপকরণও আলাদা হতে পারে। সাধারণ পিণ্ডদানের তালিকা দিয়ে সব আচার করা যায় না।
আগে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী আচার স্থির করুন, তার পরে সামগ্রীর তালিকা ও অন্তর্ভুক্ত খরচ নিশ্চিত করুন।