
সাত দিন · গয়া
শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ ও কথা
প্রয়াতজনের শান্তিকামনায় গয়ায় শ্রীমদ্ভাগবতের সাত দিনের পারায়ণ।
খরচ—শাস্ত্রবিধি মেনে পূজা, সমস্ত সামগ্রী ও দক্ষিণা
- মূলপাঠসাত দিন · শ্রাদ্ধের জন্য সংস্কৃত পারায়ণ₹31,000
- ব্যাখ্যা-সহ ভাগবত কথাসাত দিন · কথকের পাঠ ও ব্যাখ্যা₹71,000
- সংগীতময় ভাগবত কথাসাত দিন · গায়ক ও বাদ্যশিল্পী-সহ₹1,51,000
পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী পূজার বিধি আলাদা হয়। কোনটি প্রয়োজন, জানতে ফোন করুন।
প্রয়াতজনের উদ্দেশে ভাগবত পাঠ
শ্রাদ্ধের সঙ্গে ভাগবত পাঠের বিধানের কথা শাস্ত্রে রয়েছে। সাত দিনে ভাগ করে পাঠ সম্পন্ন হয় বলে একে ‘সপ্তাহ’ বলা হয়; পাঠের পুণ্য পূর্বপুরুষকে নিবেদন করা হয়। মৃত্যুর পরবর্তী বছরে, মৃত্যুবার্ষিকীতে অথবা গয়ায় পিণ্ডদান করতে এসে পরিবারগুলি এই পাঠ করান।
তিনভাবে আয়োজন
মূলপাঠে কেবল সংস্কৃত পারায়ণ হয়, ব্যাখ্যা বা প্রবচন থাকে না। শ্রাদ্ধের জন্য শাস্ত্রনির্দিষ্ট এই রূপটিই অধিকাংশ পরিবার পূর্বপুরুষের উদ্দেশে বেছে নেন। কথায় ব্যাসাসনে কথক পাঠের সঙ্গে ব্যাখ্যাও করেন, যাতে পরিবার ও শ্রোতারা অর্থ বুঝতে পারেন। পরিবারের সকলে বসে শুনতে চাইলে এই রূপ উপযুক্ত। সংগীতময় কথায় গায়ক ও বাদ্যশিল্পীরাও যোগ দেন; তখন অনুষ্ঠানটি বৃহত্তর সমাগমের রূপ পায়।
সাত দিনের ক্রম
আগে থেকে নির্ধারিত সময়ে প্রতিদিন সাধারণত চার-পাঁচ ঘণ্টা পাঠ হয়। ব্যাসপীঠ সাজিয়ে ভাগবত স্থাপন ও পূজার পর বারো স্কন্ধ ক্রমানুসারে পাঠ করা হয়। সপ্তম দিনে সমাপন ও হোম। সাত দিন সময় দিতে না পারলে কখনও চার, পাঁচ বা ছয় দিনের চতুরহ, পঞ্চাহ বা ষড়হ পারায়ণ হয়; তবে সাত দিনের সপ্তাহই প্রচলিত এবং শ্রাদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত রূপ।
কোথায় হয়
গয়ায় কোনও সভাঘরে বা কর্মস্থলের কাছাকাছি ঘাটে, অথবা চাইলে পরিবারের নিজস্ব বাড়িতেও আয়োজন হয়। পিণ্ডদানের সঙ্গে করালে সাধারণত গয়াতেই রাখা হয়, যাতে একই সফরে বেদি-পরিক্রমা ও সাত দিনের পাঠ সম্পন্ন করা যায়।
গয়ার পুণ্যস্থান
গয়ায় যেখানে পিণ্ডদান হয়
বিষ্ণুপদ মন্দির
গয়ার প্রধান মন্দির। গয়াসুরকে স্থির রাখতে বিষ্ণু পাথরে যে চরণ রেখেছিলেন বলে পুরাণকথা, সেই চরণচিহ্নকে ঘিরেই মন্দির। গয়ার পিণ্ডদানে ভগবানের এই চরণে নিবেদন অন্যতম প্রধান কর্ম।
অক্ষয়বট
সীতাদেবীর আশীর্বাদে চিরজীবী বলে পূজিত বটগাছ। এর নীচে শেষ সুফল গ্রহণ না করলে গয়ার পিণ্ডদান অসম্পূর্ণ বলে মানা হয়। কথিত আছে, রামও এখানে দশরথের উদ্দেশে পিণ্ড অর্পণ করেছিলেন।
ফল্গু নদী
সীতাদেবীর পিতৃকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গয়ার পবিত্র নদী। প্রয়াত পূর্বজনের উদ্দেশে জল ও তিল দিয়ে ফল্গুতে তর্পণের মধ্য দিয়ে কর্ম শুরু হয়।
প্রেতশিলা
বিষ্ণুপদ থেকে 8 কিমি উত্তরের পাথুরে পাহাড়। দুর্ঘটনা বা অন্যভাবে অকালে প্রয়াত আত্মার জন্য এখানে কর্ম হয়। ধর্মশিলায় পিণ্ড ও ছাতু নিবেদনে প্রেতদশা থেকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।
গয়ার পুরাণকথা
বায়ুপুরাণে গয়ার কথা
বায়ুপুরাণের কথায়, অসুর গয়াসুর এমন কঠোর তপস্যা করেছিলেন যে তাঁর দেহই পবিত্র হয়ে উঠেছিল। যাঁরা তাঁকে স্পর্শ করতেন বা তাঁর দেহের ওপর মৃত্যুবরণ করতেন, সঙ্গে সঙ্গে মোক্ষলাভ করতেন। স্বর্গ পূর্ণ হতে লাগল, নরক শূন্য হল; সৃষ্টির স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বদলে গেল।
শৃঙ্খলা ফেরাতে দেবতারা গয়াসুরের দেহে মহাযজ্ঞ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি সম্মত হয়ে আজকের গয়ার ভূমিতে শুয়ে পড়লেন। তবুও দেহ কাঁপতে থাকায় বিষ্ণু একটি পাথরের ফলকের ওপর চরণ রেখে তাঁকে স্থির করলেন। সেই চরণচিহ্ন ঘিরেই আজকের বিষ্ণুপদ মন্দির।
বিনিময়ে গয়াসুর বর চাইলেন—এই ভূমি যেন শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হয়, যেখানে জীবিতের নিবেদনে প্রয়াতজন মুক্তি পান। বিষ্ণু সেই বর দিলেন। গয়া মাহাত্ম্যে তাই এখানকার পিণ্ডদানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূর্বপুরুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে।
বায়ুপুরাণেই এই গয়া মাহাত্ম্য বর্ণিত। সেই বায়ুপুরাণ থেকে আমাদের নামের প্রেরণা, আর পিতৃকর্মের এই উদ্দেশ্যেই আমাদের আয়োজন।
কী প্রয়োজন, জানান
প্রতিটি আয়োজনে যা থাকে
- পুরো সাত দিনের জন্য কথক বা পাঠক ব্রাহ্মণ
- ব্যাসপীঠ, ভাগবত স্থাপন ও প্রতিদিনের পূজা
- পাঠ ও সমাপনী হোমের সমস্ত সামগ্রী
- নির্দিষ্ট পূর্বপুরুষের উদ্দেশে পরিবারের নাম ও গোত্র নিয়ে সংকল্প
- গয়ায় বা আপনাদের বাড়িতে স্থানের ব্যবস্থা
- সপ্তম দিনে সমাপনী হোম ও পূর্ণাহুতি
গয়ার পাণ্ডাজিরা
যাঁদের তত্ত্বাবধানে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান
পরিচয় ও বংশপরম্পরা যাচাই করা গয়াওয়াল তীর্থপুরোহিতেরা শাস্ত্রবিধি মেনে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করান।
পরিবারের সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্নোত্তর
পূর্বপুরুষের উদ্দেশে কোন রূপটি বেছে নেব?
মূলপাঠ। শ্রাদ্ধের জন্য এই রূপেরই বিধান; পাঠ নিজেই নিবেদন। পরিবার অর্থ বুঝে শুনতে চাইলে ব্যাখ্যা-সহ কথা বেছে নিতে পারেন।
সাত দিনের কমে করা যায়?
চার, পাঁচ ও ছয় দিনের পারায়ণের বর্ণনাও আছে। তবে শ্রাদ্ধের সঙ্গে যুক্ত প্রচলিত রূপটি সাত দিনের। একান্ত অসুবিধা না হলে আমরা সাত দিনই পরামর্শ দিই।
পিণ্ডদানের সঙ্গে করা যায়?
হ্যাঁ, অনেক পরিবারই করেন। একই সফরে বেদি-পরিক্রমা ও সপ্তাহ রাখেন বলে এক দিনের বদলে সাত দিন গয়ায় থাকেন।
পুরো পরিবারকে কি সব সময় বসতে হবে?
কর্তার বসা উচিত। অন্যরা সুবিধামতো যোগ দিতে পারেন। মূলপাঠের ক্ষেত্রে পরিবারের সবাই প্রতিটি ঘণ্টা উপস্থিত না থাকলেও পারায়ণ সম্পূর্ণ হয়।
এখান থেকেই শুরু
কোনও প্রশ্ন থাকলে বলুন, বুঝিয়ে দেব
মা-বাবার উদ্দেশে এই কর্ম আপনাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও বিধি অসম্পূর্ণ রেখে নয়—প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে, আপনাদের সামনেই শাস্ত্র মেনে কর্ম সম্পন্ন হয়। খরচও শুরুতেই জানানো হয়। আগে কথা বলুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।
শ্রাদ্ধে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিধিও জরুরি।
শাস্ত্রবিধি মেনে কর্ম সম্পন্ন না হলে শ্রাদ্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যায়—আন্তরিক শ্রদ্ধা থাকলেও।










