বিষ্ণুপদ মন্দির

পুণ্যস্থান

বিষ্ণুপদ মন্দির

পুরাণকথায় যেখানে বিষ্ণুর চরণস্পর্শে গয়া মোক্ষভূমি হয়ে উঠেছিল। পিণ্ডদানের এই প্রধান স্থানে যাওয়ার আগে বিধিক্রম, মন্দিরের নিয়ম ও পাণ্ডাজির নির্দেশ জেনে নিন।

পূর্বপুরুষের প্রতি আমাদের ঋণ

যাঁদের কাছে আমাদের সবকিছুর ঋণ, তাঁদের উদ্দেশে এই কর্ম পিতৃঋণ শোধের একটি পথ। পরিবারের উদ্দেশ্য জানান; ফোনে কথা বলে প্রতিটি ধাপ একসঙ্গে ঠিক করে নেব।

বিষ্ণুর চরণস্পর্শের ভূমি

বায়ুপুরাণ ও গরুড়পুরাণের কথায়, গয়াসুর এমন বর পেয়েছিলেন যে তাঁকে দেখলে বা স্পর্শ করলেই মোক্ষলাভ হত। সৃষ্টির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিষ্ণু এখানেই তাঁর বক্ষে চরণ রাখেন। গয়াসুরের শেষ প্রার্থনা ছিল—এই পবিত্র ভূমিতে শ্রাদ্ধ করলে যেন পূর্বপুরুষের মুক্তি হয়।

বিষ্ণুর চরণচিহ্ন

গর্ভগৃহের কঠিন ব্যাসল্ট পাথরে প্রায় 40 সেন্টিমিটার দীর্ঘ বিষ্ণুর চরণচিহ্ন রয়েছে, রুপো-মোড়া আধারের মধ্যে সংরক্ষিত। এটিই গয়ার পিণ্ডদানের অন্যতম আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ফল্গুর পাশে বর্তমান মন্দিরটি ইন্দোরের রানি অহল্যাবাঈ হোলকর 1787 সালে পুনর্নির্মাণ করেন।

কর্মসূচিতে বিষ্ণুপদ

সাধারণত ফল্গুতে তর্পণ ও অক্ষয়বটের কর্মের সঙ্গে বিষ্ণুপদ রাখা হয়। তারিখ, ভিড় ও পারিবারিক পরম্পরা অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্রম পাণ্ডাজি নিশ্চিত করবেন।

প্রবেশ ও ভিড় সম্পর্কে

পর্যটন নির্দেশিকা অনুযায়ী ভিতরে মোবাইল, ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নেওয়া নিষেধ। শালীন পোশাক পরা প্রত্যাশিত। পিতৃপক্ষ বা ভিড়ের দিনে বাড়তি সময় রাখুন; বয়স্ক সদস্যদের বসা ও বিশ্রামের কথা আগে ভাবুন।

গয়ার পুণ্যস্থান

গয়ায় যেখানে পিণ্ডদান হয়

বিষ্ণুপদ মন্দির

গয়ার প্রধান মন্দির। গয়াসুরকে স্থির রাখতে বিষ্ণু পাথরে যে চরণ রেখেছিলেন বলে পুরাণকথা, সেই চরণচিহ্নকে ঘিরেই মন্দির। গয়ার পিণ্ডদানে ভগবানের এই চরণে নিবেদন অন্যতম প্রধান কর্ম।

অক্ষয়বট

সীতাদেবীর আশীর্বাদে চিরজীবী বলে পূজিত বটগাছ। এর নীচে শেষ সুফল গ্রহণ না করলে গয়ার পিণ্ডদান অসম্পূর্ণ বলে মানা হয়। কথিত আছে, রামও এখানে দশরথের উদ্দেশে পিণ্ড অর্পণ করেছিলেন।

ফল্গু নদী

সীতাদেবীর পিতৃকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গয়ার পবিত্র নদী। প্রয়াত পূর্বজনের উদ্দেশে জল ও তিল দিয়ে ফল্গুতে তর্পণের মধ্য দিয়ে কর্ম শুরু হয়।

প্রেতশিলা

বিষ্ণুপদ থেকে 8 কিমি উত্তরের পাথুরে পাহাড়। দুর্ঘটনা বা অন্যভাবে অকালে প্রয়াত আত্মার জন্য এখানে কর্ম হয়। ধর্মশিলায় পিণ্ড ও ছাতু নিবেদনে প্রেতদশা থেকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

গয়ার পুরাণকথা

বায়ুপুরাণে গয়ার কথা

বায়ুপুরাণের কথায়, অসুর গয়াসুর এমন কঠোর তপস্যা করেছিলেন যে তাঁর দেহই পবিত্র হয়ে উঠেছিল। যাঁরা তাঁকে স্পর্শ করতেন বা তাঁর দেহের ওপর মৃত্যুবরণ করতেন, সঙ্গে সঙ্গে মোক্ষলাভ করতেন। স্বর্গ পূর্ণ হতে লাগল, নরক শূন্য হল; সৃষ্টির স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বদলে গেল।

শৃঙ্খলা ফেরাতে দেবতারা গয়াসুরের দেহে মহাযজ্ঞ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি সম্মত হয়ে আজকের গয়ার ভূমিতে শুয়ে পড়লেন। তবুও দেহ কাঁপতে থাকায় বিষ্ণু একটি পাথরের ফলকের ওপর চরণ রেখে তাঁকে স্থির করলেন। সেই চরণচিহ্ন ঘিরেই আজকের বিষ্ণুপদ মন্দির।

বিনিময়ে গয়াসুর বর চাইলেন—এই ভূমি যেন শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হয়, যেখানে জীবিতের নিবেদনে প্রয়াতজন মুক্তি পান। বিষ্ণু সেই বর দিলেন। গয়া মাহাত্ম্যে তাই এখানকার পিণ্ডদানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূর্বপুরুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে।

বায়ুপুরাণেই এই গয়া মাহাত্ম্য বর্ণিত। সেই বায়ুপুরাণ থেকে আমাদের নামের প্রেরণা, আর পিতৃকর্মের এই উদ্দেশ্যেই আমাদের আয়োজন।

কী প্রয়োজন, জানান

প্রতিটি আয়োজনে যা থাকে

  • পাণ্ডাজির যোগাযোগ ও দেখা করার স্থান
  • ফল্গু ও অক্ষয়বট-সহ বিধিক্রম
  • আসার আগেই সামগ্রীর বিবরণ
  • সময় ও ভিড় সম্পর্কে পরামর্শ
  • স্থানগুলির মধ্যে যাতায়াত
  • বয়স্ক সদস্যদের সহায়তা

গয়ার পাণ্ডাজিরা

যাঁদের তত্ত্বাবধানে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান

পরিচয় ও বংশপরম্পরা যাচাই করা গয়াওয়াল তীর্থপুরোহিতেরা শাস্ত্রবিধি মেনে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করান।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে 1,00,000-এরও বেশি পরিবারের সেবায়

পরিবারের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর

গয়ায় পিণ্ডদানে কি বিষ্ণুপদ মন্দির থাকে?

সাধারণত থাকে। তবে চূড়ান্ত বিধিক্রম পাণ্ডাজি নিশ্চিত করেন।

বিষ্ণুপদে স্থানীয় ব্যবস্থায় আপনারা সাহায্য করেন?

হ্যাঁ। পাণ্ডাজির নির্দেশ, সময়, যাতায়াত ও বয়স্ক সদস্যদের সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারি।

এর জন্য কি পিণ্ডদানের থেকে আলাদা করে যোগাযোগ করতে হবে?

না। একই পিণ্ডদানের পরিকল্পনার মধ্যেই বিষ্ণুপদের ব্যবস্থা করা হয়।

মন্দিরের কোন নিয়মগুলি জেনে রাখা দরকার?

ভিতরে মোবাইল, ক্যামেরা ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নেওয়া যায় না; শালীন পোশাক পরুন। 1–2 ঘণ্টা রাখুন, পিতৃপক্ষের ভিড়ে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

এখান থেকেই শুরু

কোনও প্রশ্ন থাকলে বলুন, বুঝিয়ে দেব

মা-বাবার উদ্দেশে এই কর্ম আপনাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও বিধি অসম্পূর্ণ রেখে নয়—প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে, আপনাদের সামনেই শাস্ত্র মেনে কর্ম সম্পন্ন হয়। খরচও শুরুতেই জানানো হয়। আগে কথা বলুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

শ্রাদ্ধে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিধিও জরুরি।

শাস্ত্রবিধি মেনে কর্ম সম্পন্ন না হলে শ্রাদ্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যায়—আন্তরিক শ্রদ্ধা থাকলেও।

লিখে জানাতে চান?আপনাদের তথ্য পাঠানসুবিধা হলে এই ফর্মটি পূরণ করুন। শুরু করার জন্য ফোন বা WhatsApp-এ কথা বলাই যথেষ্ট।
কী কী প্রয়োজন জানান (ঐচ্ছিক—যেগুলি দরকার, শুধু সেগুলিই বেছে নিন)

এখনই টাকা দিতে হবে না। আগে ফোন করে আপনাদের প্রয়োজন বুঝে নেব।

+91 77177 85996WhatsApp
গয়ার বিষ্ণুপদ মন্দির — পিণ্ডদান, চরণচিহ্ন ও বিধি