গয়াজির বেদিগুলিতে পিণ্ডদান
গয়ায় পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে বিভিন্ন বেদিতে পিণ্ডদান, তর্পণ ও শ্রাদ্ধ হয়। ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বট প্রধান স্থান। বিস্তৃত গয়াশ্রাদ্ধে প্রেতশিলা, পঞ্চতীর্থী, ধর্মারণ্য এবং অন্যান্য নির্ধারিত বেদিও রয়েছে।
তিন দিনের আয়োজনে ফল্গু থেকে শুরু করে ৪৫ বেদির পরিক্রমা সম্পূর্ণ হয়। সতেরো দিনের কর্মসূচি পুনপুনে শুরু হয়। এতে নির্ধারিত তর্পণস্থলও রয়েছে; শেষ শ্রাদ্ধ ও সুফল অক্ষয়বটে হয়। নীচে এর প্রচলিত তিথিক্রম দেওয়া হল।
তিথি অনুযায়ী গয়াশ্রাদ্ধের সূচি
এটি তিথি অনুযায়ী কর্মের ক্রম; প্রতিটি সারি আলাদা দিন বা আলাদা বেদি নয়। কখনও দুটি তিথির কর্ম একই দিনে হয়।
| তিথি | স্থান ও কর্ম |
|---|---|
| ভাদ্র শুক্ল চতুর্দশী | পুনপুনে প্রবেশশ্রাদ্ধ। |
| ভাদ্র পূর্ণিমা | ফল্গুতে স্নান, তর্পণ ও শ্রাদ্ধ। |
| আশ্বিন কৃষ্ণ প্রতিপদ | ব্রহ্মকুণ্ড, প্রেতশিলা, রামশিলা ও রামকুণ্ডে শ্রাদ্ধ; এই পরিক্রমার কাকবলি। |
| কৃষ্ণ দ্বিতীয়া | পঞ্চতীর্থী: উত্তরমানস, উদীচী, কনখল, দক্ষিণমানস ও জিহ্বালোল; গদাধর পূজা। |
| কৃষ্ণ তৃতীয়া | সরস্বতী তীর্থ, মতঙ্গবাপী ও ধর্মারণ্যে কর্ম; বোধিতরু দর্শন। |
| কৃষ্ণ চতুর্থী | ব্রহ্মসরোবরে শ্রাদ্ধ ও কাকবলি; তারকব্রহ্ম দর্শন এবং আম্রসিঞ্চন। |
| কৃষ্ণ পঞ্চমী | বিষ্ণুপদ, রুদ্রপদ ও ব্রহ্মপদে শ্রাদ্ধ। |
| কৃষ্ণ ষষ্ঠী | কার্তিকপদ, দক্ষিণাগ্নিপদ, গার্হপত্যাগ্নিপদ ও আহবনীয়াগ্নিপদ। |
| কৃষ্ণ সপ্তমী | সূর্যপদ, চন্দ্রপদ, গণেশপদ, সন্ধ্যাগ্নিপদ, আবসথ্যাগ্নিপদ ও দধীচিপদ। |
| কৃষ্ণ অষ্টমী | কণ্বপদ, মতঙ্গপদ, ক্রৌঞ্চপদ, অগস্ত্যপদ, ইন্দ্রপদ ও কশ্যপপদ; গজকর্ণে দুগ্ধতর্পণ। |
| কৃষ্ণ নবমী | ফল্গুর পূর্বতীরে রামগয়া ও সীতাকুণ্ডে শ্রাদ্ধ। |
| কৃষ্ণ দশমী | গয়াশির ও গয়াকূপে শ্রাদ্ধ। |
| কৃষ্ণ একাদশী | মুণ্ডপৃষ্ঠ, আদিগয়া ও ধৌতপদে শ্রাদ্ধ। |
| কৃষ্ণ দ্বাদশী | ভীমগয়া, গোপ্রচার ও গদালোলে শ্রাদ্ধ। |
| কৃষ্ণ ত্রয়োদশী | বিষ্ণুপূজা ও ফল্গুতে দুগ্ধতর্পণ। |
| কৃষ্ণ চতুর্দশী | বৈতরণীতে তর্পণ ও নির্ধারিত দান। |
| অমাবস্যা | অক্ষয়বটে শ্রাদ্ধ, শয্যাদান ও সুফল। |
কাকবলি ও ফল্গুর উল্লেখ দুবার কেন?
প্রতিপদে প্রেতশিলা–রামশিলা পরিক্রমায় কাকবলি হয়। চতুর্থীতে ব্রহ্মসরোবরের কর্মের সঙ্গে কাকবলি, তারকব্রহ্ম দর্শন ও আম্রসিঞ্চন থাকে। স্থান ও তিথি দিয়ে প্রতিটি কর্ম চেনা যায়।
পূর্ণিমায় ফল্গুতে স্নান, তর্পণ ও শ্রাদ্ধ হয়। ত্রয়োদশীতে বিষ্ণুপূজার সঙ্গে ফল্গুতে দুগ্ধতর্পণ হয়। প্রেতশিলার ব্রহ্মকুণ্ড ও চতুর্থীর কর্মের ব্রহ্মসরোবরও আলাদা নামে দেওয়া হয়েছে।
বিষ্ণুপদ ও পদবেদির ক্রম
বিষ্ণুপদ অঞ্চলের ক্রম পঞ্চমীতে বিষ্ণুপদ, রুদ্রপদ ও ব্রহ্মপদ দিয়ে শুরু হয়। ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমীতে যথাক্রমে চার, ছয় ও ছয়টি পদবেদিতে কর্ম হয়। অষ্টমীর পদবেদির কর্মের সঙ্গে গজকর্ণে দুগ্ধতর্পণও হয়।
প্রধান তীর্থগুলি কোন অঞ্চলে
উত্তরের পরিক্রমায় ব্রহ্মকুণ্ড, প্রেতশিলা, রামশিলা ও রামকুণ্ড রয়েছে। উত্তরমানস, সূর্যকুণ্ড অঞ্চলের উদীচী–কনখল–দক্ষিণমানস এবং জিহ্বালোল নিয়ে পঞ্চতীর্থী। বোধগয়ার দিকে সরস্বতী তীর্থ, মতঙ্গবাপী, ধর্মারণ্য ও বোধিতরু রয়েছে।
ফল্গুর পূর্বতীরে রামগয়া ও সীতাকুণ্ড। গয়াশির, গয়াকূপ, মুণ্ডপৃষ্ঠ, আদিগয়া, ধৌতপদ, ভীমগয়া, গোপ্রচার ও গদালোল পরবর্তী ক্রমে আসে।

কত দিনের গয়াশ্রাদ্ধ করবেন?
এক দিনের গয়া পিণ্ডদানে প্রধান স্থান ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বট রয়েছে। তিন দিনের গয়াশ্রাদ্ধ ফল্গুতে শুরু হয়ে ৪৫ বেদির বিস্তৃত পরিক্রমা সম্পূর্ণ করে। সতেরো দিনের বৃহৎ গয়াশ্রাদ্ধ পুনপুনে শুরু হয়ে উপরের তিথিক্রম মেনে অক্ষয়বটে শেষ হয়।
সম্পূর্ণ তালিকা মানে সব পরিবারকে পুরো পরিক্রমা করতে হবে না। কত দিন আছে ও পরিবারের পরিস্থিতি জানান। পুরোহিতের সঙ্গে পথ তুলনা করে বেছে নেওয়া সফর, অন্তর্ভুক্ত ব্যবস্থা ও মোট খরচ বুকিংয়ের আগে লিখে ঠিক করতে সাহায্য করব।