সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া: সকল পূর্বপুরুষের স্মরণে

পিতৃপক্ষের শেষ দিনে জ্ঞাত-অজ্ঞাত পূর্বপুরুষকে স্মরণ করার রীতি রয়েছে। মৃত্যুতিথি জানা না থাকলে করণীয়, গয়ায় আসার প্রস্তুতি এবং বাড়িতে পালনের রীতি সম্পর্কে জানুন। ২০২৭ সালে দিনটি ২৯ সেপ্টেম্বর।

পড়তে প্রায় 7 মিনিট লাগবেলেখক Vayu Pind Daanসর্বশেষ সংশোধন 2026-11-05মূল লেখার ধর্মীয় পরামর্শদাতা পণ্ডিত ওঙ্কারনাথ অগ্নিবার, গয়াওয়াল তীর্থপুরোহিত, গয়া - গয়া শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান, তর্পণ ও পিতৃকর্মে 40 বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা
৫.০/৫১১৯টি রিভিউGoogle-এ যাচাই করুন

৪,১০০+পূজা সম্পন্ন

১,০০,০০০+পরিবারের সেবায়আমাদের তীর্থপুরোহিতেরা

পিতৃপক্ষের সমাপ্তির দিন

পিতৃপক্ষের অন্য দিনগুলিতে সাধারণত প্রয়াতজনের নির্দিষ্ট তিথি অনুসরণ করা হয়। শেষ অমাবস্যায় সকল পূর্বপুরুষকে একসঙ্গে স্মরণের রীতি থেকেই ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’ নাম।

দিনটি মহালয়া অমাবস্যা ও পিতৃবিসর্জনী অমাবস্যা নামেও পরিচিত। পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পক্ষের সমাপ্তি টানার ভাব এর সঙ্গে যুক্ত।

২০২৭ সালে সর্বপিতৃ অমাবস্যা বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর। এই দিন গয়ার শ্রাদ্ধপক্ষ শেষ হয়।

কাদের স্মরণ করা হয়

নাম জানা পূর্বপুরুষের পাশাপাশি বংশের অজ্ঞাত পূর্বপুরুষদেরও সমষ্টিগতভাবে স্মরণ করা হয়। যতটুকু তথ্য আছে, সেটুকু নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করা যায়।

মৃত্যুতিথির তথ্য হারিয়ে গেছে, আগের প্রজন্মের নাম জানা নেই অথবা দূরে মৃত্যুর কারণে আচার অসম্পূর্ণ ছিল-এই পরিস্থিতিগুলি বায়ুকে আলাদা করে জানান। বিশেষ আচার বাকি থাকলে শুধু অমাবস্যার সাধারণ শ্রাদ্ধে সব মিটেছে ধরে নেবেন না।

সরাসরি বংশধারার বাইরের প্রয়াত আত্মীয় এবং পক্ষের মধ্যে যাঁর শ্রাদ্ধ বাদ পড়েছে, তাঁদের কথাও বলুন। সম্পর্ক অনুযায়ী সংকল্পে অন্তর্ভুক্তির বিধি জেনে নিন।

তিথি জানা না থাকলে

মৃত্যুর নথি বা তিথির তথ্য না থাকলেও পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা যায়। সর্বপিতৃ অমাবস্যায় অজ্ঞাত মৃত্যুতিথির পূর্বপুরুষদেরও স্মরণের রীতি রয়েছে।

সর্বপিতৃ অমাবস্যায় জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষের উদ্দেশে সংকল্পের প্রচলন রয়েছে। কর্তার পরিচয় এবং পূর্বপুরুষের নাম-গোত্র যতটুকু জানা আছে, তা আগে বায়ুকে জানান।

যাত্রার আগে বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বসে নাম, সম্পর্ক, আদি গ্রামের পরিচয় ও গোত্র লিখে নিন। অজানা অংশ স্পষ্টভাবে অজানা বলুন।

দিনের আচার

স্নান ও সংকল্পের পরে তর্পণে জল, তিল ও কুশ দিয়ে নিবেদন করা হয়। কার কার নাম বলা হবে এবং সমষ্টিগত স্মরণ কীভাবে হবে, পুরোহিত নির্দেশ দেন।

নির্ধারিত উপকরণে পিণ্ড তৈরি করে মন্ত্রসহ নিবেদন করা হয়। সংখ্যা ও পদ্ধতি পরিবারের বিধি এবং নির্বাচিত গয়াশ্রাদ্ধের সূচির ওপর নির্ভর করে।

ব্রাহ্মণভোজন, অন্নদান বা বস্ত্রদান সামর্থ্য ও পরম্পরা অনুযায়ী হতে পারে। নিবেদনের পরে খাবার বা উপকরণ কোথায় রাখবেন, সে বিষয়ে তীর্থের নিয়ম মানুন এবং স্থানটি পরিচ্ছন্ন রাখুন।

গয়ায় পালন করলে

বাড়িতে বা স্থানীয় তীর্থে এই দিনের আচার পালনের প্রচলন রয়েছে। গয়ার পিতৃতীর্থ হিসেবে মাহাত্ম্য ও গয়াসুরের ধর্মীয় কাহিনির কারণে বহু মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে আসেন।

নির্বাচিত সূচিতে ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বটের আচার থাকতে পারে। কোন বেদি অন্তর্ভুক্ত এবং কোথায় সমাপ্তি হবে, আগে জেনে নিন।

অমাবস্যায় ভিড় বেশি হতে পারে। ঘাট ও মন্দিরে যাওয়া-আসা, অপেক্ষা এবং বিশ্রামের জন্য বাড়তি সময় রাখুন।

পূজা ও যাত্রার প্রয়োজন আগে ঠিক করুন

সর্বপিতৃ অমাবস্যায় গয়ায় ভিড় হতে পারে। কারা আসবেন ও সুবিধার দিন ঠিক হলে জানান। সময় মিলবে কি না এবং পূজার সম্ভাব্য ক্রম বুঝিয়ে দেব। আগে পরিকল্পনা সুবিধা দেয়, তবে জনসমাগম বা সব অপেক্ষা দূর করে না।

সামগ্রী, অন্তর্ভুক্ত দক্ষিণা, দেখা করার জায়গা ও ঠিক করা মোট খরচ লিখে দিই। বয়স্কদের হাঁটাচলা, ঘর বা গাড়ির প্রয়োজন জানান; ব্যবস্থা ও আলাদা খরচ থাকলে যাত্রার আগেই আলোচনা করে নেব।

কর্তা ও পরিবারের উপস্থিতি

কর্তা সংকল্প ও মূল নিবেদন করেন। পুত্র, কন্যা বা অন্য আত্মীয়ের মধ্যে কে কর্তা হবেন, তা পরিবারের পরম্পরা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করুন।

সকলের গয়ায় উপস্থিত থাকা সব সময় প্রয়োজন হয় না। কে আসবেন, কার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে এবং বয়স্ক সদস্য বাড়িতে থাকলে কী করবেন, তা আগে আলোচনা করুন।

এই দিনে গয়ায় আসতে না পারলে

পারিবারিক রীতি অনুযায়ী বাড়িতে বা স্থানীয়ভাবে শ্রাদ্ধ-তর্পণ করা যায়। তার বিধি পরিবারের পুরোহিতের কাছে বুঝে নিন। পরে উপযুক্ত দিনে গয়া সফর আলাদা করে ঠিক করতে পারেন; এই দিনে যাত্রা না হলে সব পিতৃকর্ম পরের বছর পর্যন্ত পিছোতে হয় না।

আমাদের গয়ার বুকিং সরাসরি এসে পূজায় অংশ নেওয়ার জন্য। পরিবারের কয়েকজনই আসতে পারলে সম্পর্ক ও পরিস্থিতি জানান; আমাদের পুরোহিত বুঝিয়ে দেবেন কে কর্তা হতে পারেন। পরিবারের সুবিধা অনুযায়ী সফর ঠিক করতে সাহায্য করব।

তথ্যসূত্র

গয়া, বিহারের জন্য দৃক পঞ্চাঙ্গের ২০২৭ সালের শ্রাদ্ধতালিকার সঙ্গে তারিখগুলি ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এ মিলিয়ে দেখা হয়েছে। সময় অঞ্চল: Asia/Kolkata (IST, UTC+05:30)। শ্রাদ্ধের দিন স্থানীয় অপরাহ্ণের বিধি অনুযায়ী, শুধু সূর্যোদয়ের তিথি অনুযায়ী নয়।

গয়ায় পিণ্ডদানের ছবি →

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

মৃত্যুতিথি না জানলে এই দিনে শ্রাদ্ধ করা যায়?
সর্বপিতৃ অমাবস্যায় যাঁদের মৃত্যুতিথি জানা নেই, সেই পূর্বপুরুষদের স্মরণের প্রচলন রয়েছে। জানা নাম-গোত্র দিন এবং বিশেষ কোনও অসম্পূর্ণ আচার থাকলে তা আলাদাভাবে জানান।
একসঙ্গে একাধিক পূর্বপুরুষের জন্য করা যাবে?
হ্যাঁ, সমষ্টিগত স্মরণের বিধি রয়েছে। প্রত্যেকের জানা নাম ও সম্পর্ক লিখে দিন; নির্দিষ্ট সংকল্প পুরোহিত ঠিক করবেন।
সরাসরি বংশধারার বাইরের আত্মীয়ের নাম নেওয়া যায়?
সম্পর্ক ও পরিস্থিতি জানিয়ে অন্তর্ভুক্তির বিধি জেনে নিন। নিঃসন্তান আত্মীয় বা যাঁর জন্য আর কেউ আচার করেন না, তাঁদের কথাও আলোচনায় আনুন।
পক্ষের সব দিন পালন করতে হবে, না শুধু অমাবস্যায়?
পরিবারের বিধি ও জানা মৃত্যুতিথি অনুযায়ী করণীয় বদলায়। অনেক পরিবারে এক দিনে সকল পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা হয়। তবে এতে প্রয়াতজনের নির্দিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ করার দায়িত্ব আপনা থেকে বাদ যায় না।
গয়াতেই করতে হবে?
বাড়িতে ও স্থানীয় নদীঘাটেও পালনের প্রচলন আছে। গয়ায় আসা বিশেষ তীর্থযাত্রা; আসতে না পারলে স্থানীয় পুরোহিতের সাহায্যে করণীয় স্থির করুন।
অমাবস্যার দিন বাদ গেলে কি এক বছর অপেক্ষা করতে হবে?
অন্য সময়েও গয়াশ্রাদ্ধ করা যায়। বায়ু আপনাদের পরিবারের তিথি ও সুবিধামতো দিন মিলিয়ে পূজার বুকিং এবং যাত্রার প্রস্তুতিতে সাহায্য করে।

গয়া শ্রাদ্ধ / পিণ্ডদান করানোর ব্যবস্থা

এই পূজা আপনাদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত কি না, আমাদের পুরোহিতের সঙ্গে মিলিয়ে নেব। প্রস্তুতি, কী কী ব্যবস্থা থাকবে আর মোট খরচ আগে লিখে জানাব, যাতে গয়ায় এসে সব নতুন করে ঠিক করতে না হয়।

আরও পড়ুন

+91 77177 85996WhatsApp