পিতৃপক্ষের সমাপ্তির দিন
পিতৃপক্ষের অন্য দিনগুলিতে সাধারণত প্রয়াতজনের নির্দিষ্ট তিথি অনুসরণ করা হয়। শেষ অমাবস্যায় সকল পূর্বপুরুষকে একসঙ্গে স্মরণের রীতি থেকেই ‘সর্বপিতৃ অমাবস্যা’ নাম।
দিনটি মহালয়া অমাবস্যা ও পিতৃবিসর্জনী অমাবস্যা নামেও পরিচিত। পূর্বপুরুষের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন করে পক্ষের সমাপ্তি টানার ভাব এর সঙ্গে যুক্ত।
২০২৬ সালে এই দিনটি শনিবার, ১০ অক্টোবর। গয়ায় আচার করতে চাইলে সময় ও ব্যবস্থা আগেই নিশ্চিত করুন।
কাদের স্মরণ করা হয়
নাম জানা পূর্বপুরুষের পাশাপাশি বংশের অজ্ঞাত পূর্বপুরুষদেরও সমষ্টিগতভাবে স্মরণ করা হয়। যতটুকু তথ্য আছে, সেটুকু নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করা যায়।
মৃত্যুতিথির তথ্য হারিয়ে গেছে, আগের প্রজন্মের নাম জানা নেই অথবা দূরে মৃত্যুর কারণে আচার অসম্পূর্ণ ছিল—এই পরিস্থিতিগুলি পুরোহিতকে আলাদা করে জানান। বিশেষ আচার বাকি থাকলে শুধু অমাবস্যার সাধারণ শ্রাদ্ধে সব মিটেছে ধরে নেবেন না।
সরাসরি বংশধারার বাইরের প্রয়াত আত্মীয় এবং পক্ষের মধ্যে যাঁর শ্রাদ্ধ বাদ পড়েছে, তাঁদের কথাও বলুন। সম্পর্ক অনুযায়ী সংকল্পে অন্তর্ভুক্তির বিধি জেনে নিন।
তিথি জানা না থাকলে
মৃত্যুর নথি বা পারিবারিক স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তিথি জানা নেই বলে পূর্বপুরুষকে স্মরণ করার পথ বন্ধ হয় না।
সর্বপিতৃ অমাবস্যায় জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষের উদ্দেশে সংকল্পের প্রচলন রয়েছে। কর্তার পরিচয় এবং পূর্বপুরুষের নাম-গোত্র যতটুকু জানা আছে, তা আগে পুরোহিতকে জানান।
যাত্রার আগে বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে বসে নাম, সম্পর্ক, আদি গ্রামের পরিচয় ও গোত্র লিখে নিন। অজানা অংশ স্পষ্টভাবে অজানা বলুন।
দিনের আচার
স্নান ও সংকল্পের পরে তর্পণে জল, তিল ও কুশ দিয়ে নিবেদন করা হয়। কার কার নাম বলা হবে এবং সমষ্টিগত স্মরণ কীভাবে হবে, পুরোহিত নির্দেশ দেন।
নির্ধারিত উপকরণে পিণ্ড তৈরি করে মন্ত্রসহ নিবেদন করা হয়। সংখ্যা ও পদ্ধতি পরিবারের বিধি এবং নির্বাচিত গয়াশ্রাদ্ধের সূচির ওপর নির্ভর করে।
ব্রাহ্মণভোজন, অন্নদান বা বস্ত্রদান সামর্থ্য ও পরম্পরা অনুযায়ী হতে পারে। নিবেদনের পরে খাবার বা উপকরণ কোথায় রাখবেন, সে বিষয়ে তীর্থের নিয়ম মানুন এবং স্থানটি পরিচ্ছন্ন রাখুন।
গয়ায় পালন করলে
বাড়িতে বা স্থানীয় তীর্থে এই দিনের আচার পালনের প্রচলন রয়েছে। গয়ার পিতৃতীর্থ হিসেবে মাহাত্ম্য ও গয়াসুরের ধর্মীয় কাহিনির কারণে বহু মানুষ পরিবার নিয়ে এখানে আসেন।
নির্বাচিত সূচিতে ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বটের আচার থাকতে পারে। কোন বেদি অন্তর্ভুক্ত এবং কোথায় সমাপ্তি হবে, আগে জেনে নিন।
অমাবস্যায় ভিড় বেশি হতে পারে। ঘাট ও মন্দিরে যাওয়া-আসা, অপেক্ষা এবং বিশ্রামের জন্য বাড়তি সময় রাখুন।
আগে থেকে যে ব্যবস্থা করবেন
পুরোহিতের সময়, পৃথক না দলগত আচার এবং খরচে কী রয়েছে, আগে নিশ্চিত করুন। পৌঁছে সেদিন সকালে সব ঠিক করার ওপর নির্ভর করবেন না।
সম্ভব হলে আগের দিন পৌঁছান। নাম-গোত্র মিলিয়ে নেওয়া, সূচি বোঝা ও বয়স্কদের বিশ্রামের সুযোগ রাখুন।
পরিচ্ছন্ন পোশাক, স্নানের পরে বদলানোর শুকনো কাপড়, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন। হাঁটাচলা বা সিঁড়ির অসুবিধা আগে জানান।
কর্তা ও পরিবারের উপস্থিতি
কর্তা সংকল্প ও মূল নিবেদন করেন। পুত্র, কন্যা বা অন্য আত্মীয়ের মধ্যে কে কর্তা হবেন, তা পরিবারের পরম্পরা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করুন।
সকলের গয়ায় উপস্থিত থাকা সব সময় প্রয়োজন হয় না। কে আসবেন, কার নাম অন্তর্ভুক্ত হবে এবং বয়স্ক সদস্য বাড়িতে থাকলে কী করবেন, তা আগে আলোচনা করুন।
গয়ায় আসা সম্ভব না হলে
অসুস্থতা, বয়স, বিদেশে থাকা বা ছুটির অসুবিধায় গয়ায় আসা সম্ভব নাও হতে পারে। স্থানীয়ভাবে পরিবারের বিধি অনুযায়ী শ্রাদ্ধ ও তর্পণের পরামর্শ নিন।
কিছু পরম্পরায় প্রতিনিধি দিয়ে আচার করার বিধান রয়েছে। তবে ফোনে সংকল্প, ভিডিও বা দূর থেকে অনুষ্ঠান পরিচালনার ব্যবস্থা এই সাইটে পাওয়া যাবে—এমন ধরে নেবেন না; আপনাদের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি মানা যায় এবং তার ব্যবস্থা আছে কি না, তা আলাদা করে জানতে হবে।
পরবর্তী সময়ে নিজেরা গয়ায় আসার পরিকল্পনাও করতে পারেন। সেই সফরের পিণ্ডদান ও নির্দিষ্ট তিথিতে বাড়ির করণীয় কী, তা পৃথকভাবে বুঝে নিন।