বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ — সতেরো দিনের বিধি

সতেরো দিন · 45টি বেদি

বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ — সতেরো দিনের বিধি

গয়াক্ষেত্রের প্রতিটি বেদি জুড়ে শাস্ত্রবর্ণিত সতেরো দিনের বিস্তৃত শ্রাদ্ধবিধি।

খরচ—শাস্ত্রবিধি মেনে পূজা, সমস্ত সামগ্রী ও দক্ষিণা

  • বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ — সতেরো দিনের বিধি17 দিন · 45টি বেদি ও নয়টি তর্পণস্থল75,000
ফোনে পরামর্শথাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তাগয়ায় স্থানীয় সহায়তা

পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী পূজার বিধি আলাদা হয়। কোনটি প্রয়োজন, জানতে ফোন করুন।

‘বৃহৎ’ বলতে কোন বিধি বোঝায়

অনেক জায়গায় তিন দিনের আয়োজনকেও বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ বলা হয়। কিন্তু এই নামের বিস্তৃত বিধিটি সতেরো দিনের। তিন দিনের কর্মে প্রধান বেদিগুলি অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সেটিও নিজস্ব বিধিতে সম্পূর্ণ শ্রাদ্ধ—আমরাও করাই, অধিকাংশ পরিবার সেটিই বেছে নেন। তবে তা সতেরো দিনের বৃহৎ বিধি নয়। পরিবার এই বিশেষ বিধি চাইলে পার্থক্যটি স্পষ্ট জানা দরকার।

45টি পিণ্ডবেদি, নয়টি তর্পণস্থল

পাণ্ডাজির বিধিতালিকায় এটি সতেরো দিনের ত্রিপাক্ষিক শ্রাদ্ধ। প্রচলিত হিসাবে পিণ্ডদানের 45টি স্থান এবং তর্পণের নয়টি স্থান—মোট 54টি। তাই কোথাও 45, কোথাও 54 বলা হয়; গণনার বিষয় আলাদা বলে দুটি সংখ্যাই প্রযোজ্য। সতেরো দিনের ক্রমে সবগুলি অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম ও দ্বিতীয় দিন—প্রবেশশ্রাদ্ধ ও ফল্গু

প্রথম দিন পাটনার দক্ষিণে পুনপুনে প্রবেশশ্রাদ্ধ; গয়ায় পৌঁছনোর আগে এখানে সংকল্প হয়। পুনপুনে যাওয়া সম্ভব না হলে গোদাবরীতে শুরু। দ্বিতীয় দিন ফল্গুর ঘাটে স্নান, তর্পণ এবং নির্ধারিত বিধিতে পিণ্ড অর্পণ-সহ ফল্গু শ্রাদ্ধ।

তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন—উত্তরের পাহাড় ও গদাধর

তৃতীয় দিনে ব্রহ্মকুণ্ড, প্রেতশিলা, রামকুণ্ড, রামশিলা ও কাকবলি—প্রেতশিলা ও রামশিলা অঞ্চলের বিস্তৃত শ্রাদ্ধ। চতুর্থ দিনে ক্রমানুসারে উত্তরমানস, উদীচী, কনখল ও দক্ষিণমানস। পঞ্চম দিনে জিহ্বালোল এবং গদাধর অঞ্চলে কর্ম হয়।

ষষ্ঠ ও সপ্তম দিন—বোধগয়া ও ব্রহ্মসরোবর

ষষ্ঠ দিনে দক্ষিণে সরস্বতী, মতঙ্গবাপী, ধর্মারণ্য ও বোধগয়ার বেদিগুলিতে কর্ম। সপ্তম দিনে ব্রহ্মসরোবর, কাকবলি, তারকব্রহ্ম ও আম্রসিঞ্চন; শেষটির বিধিতে কুশ দিয়ে আমগাছের গোড়ায় জল দেওয়া হয়।

অষ্টম থেকে একাদশ দিন—বিষ্ণুপদের দেববেদি

বিষ্ণুপদের আশপাশের চরণবেদিগুলিতে চার দিন কর্ম হয়। অষ্টম দিনে বিষ্ণুপদ, রুদ্রপদ ও ব্রহ্মপদ। নবম দিনে কার্তিকপদ, দক্ষিণাগ্নি, গার্হপত্যাগ্নি, আহবনীয়াগ্নি ও সূর্যপদ। দশম দিনে চন্দ্রপদ, গণেশপদ, সন্ধ্যাগ্নিপদ, আবসথ্যাগ্নিপদ, দধীচিপদ ও কণ্বপদ। একাদশ দিনে মতঙ্গপদ, ক্রৌঞ্চপদ, ইন্দ্রপদ, অগস্ত্যপদ, কশ্যপপদ ও গজকর্ণপদ। এতগুলি পৃথক চরণবেদির জন্যই মোট বেদির সংখ্যা বেশি।

দ্বাদশ থেকে পঞ্চদশ দিন—পূর্বতীর ও প্রাচীন বেদি

দ্বাদশ দিনে ফল্গুর পূর্বতীরে রামগয়া ও সীতাকুণ্ড। ত্রয়োদশ দিনে গয়াশির ও গয়াকূপ। চতুর্দশ দিনে মুণ্ডপৃষ্ঠ, আদিগয়া ও ধৌতপদ। পঞ্চদশ দিনে ভীমগয়া, গোপ্রচার ও গদালোল এবং সংশ্লিষ্ট দর্শন।

ষোড়শ ও সপ্তদশ দিন—বৈতরণী ও সুফল

ষোড়শ দিনে ফল্গু ও বৈতরণীতে দুগ্ধতর্পণ, পিতৃদান এবং নির্ধারিত তর্পণ ও শ্রাদ্ধ হয়। সপ্তদশ দিনে অক্ষয়বটে শেষ শ্রাদ্ধ, দক্ষিণা ও পুরোহিতের কাছ থেকে সুফল গ্রহণ। যত বেদিতেই কর্ম হোক, সুফল না হওয়া পর্যন্ত এই বিধি সম্পূর্ণ নয়। এই দিন শয্যাদানও হয়। পরিবারের দানসামগ্রী ভিন্ন হয় বলে তার খরচ আলাদা।

প্রতিটি দিনের মূল ক্রম

প্রতিটি বেদিতে স্নান ও শুদ্ধি, সংকল্প, পিতৃআবাহন এবং তিল-জল দিয়ে তর্পণ হয়। তারপর পিণ্ড গড়ে পূর্বপুরুষের নাম ও গোত্রে অর্পণ। সেই বেদির নির্দিষ্ট মন্ত্র ও ক্রিয়া এবং শেষে দান-দক্ষিণা।

কারা সতেরো দিনের বিধি করেন

খুব কম পরিবারই এই দীর্ঘ সময় দিতে পারেন। পুরো সময়ের জন্য পাণ্ডাজি নির্দিষ্ট রাখতে হয় এবং পরিবারকেও গয়ায় থাকতে হয়। কোনও মৃত্যুর পরে পরিবার অশান্তিতে থাকলে, আগের কর্ম অসম্পূর্ণ থাকলে বা কর্তা একবার এই বিস্তৃত বিধি সম্পন্ন করার সংকল্প করলে এমন আয়োজন হয়। প্রয়োজন নিয়ে দ্বিধা থাকলে ফোনে বলুন; সংক্ষিপ্ত বিধিই যথেষ্ট হলে সেটিও স্পষ্ট জানাব।

গয়ার পুণ্যস্থান

গয়ায় যেখানে পিণ্ডদান হয়

বিষ্ণুপদ মন্দির

গয়ার প্রধান মন্দির। গয়াসুরকে স্থির রাখতে বিষ্ণু পাথরে যে চরণ রেখেছিলেন বলে পুরাণকথা, সেই চরণচিহ্নকে ঘিরেই মন্দির। গয়ার পিণ্ডদানে ভগবানের এই চরণে নিবেদন অন্যতম প্রধান কর্ম।

অক্ষয়বট

সীতাদেবীর আশীর্বাদে চিরজীবী বলে পূজিত বটগাছ। এর নীচে শেষ সুফল গ্রহণ না করলে গয়ার পিণ্ডদান অসম্পূর্ণ বলে মানা হয়। কথিত আছে, রামও এখানে দশরথের উদ্দেশে পিণ্ড অর্পণ করেছিলেন।

ফল্গু নদী

সীতাদেবীর পিতৃকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গয়ার পবিত্র নদী। প্রয়াত পূর্বজনের উদ্দেশে জল ও তিল দিয়ে ফল্গুতে তর্পণের মধ্য দিয়ে কর্ম শুরু হয়।

প্রেতশিলা

বিষ্ণুপদ থেকে 8 কিমি উত্তরের পাথুরে পাহাড়। দুর্ঘটনা বা অন্যভাবে অকালে প্রয়াত আত্মার জন্য এখানে কর্ম হয়। ধর্মশিলায় পিণ্ড ও ছাতু নিবেদনে প্রেতদশা থেকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

গয়ার পুরাণকথা

বায়ুপুরাণে গয়ার কথা

বায়ুপুরাণের কথায়, অসুর গয়াসুর এমন কঠোর তপস্যা করেছিলেন যে তাঁর দেহই পবিত্র হয়ে উঠেছিল। যাঁরা তাঁকে স্পর্শ করতেন বা তাঁর দেহের ওপর মৃত্যুবরণ করতেন, সঙ্গে সঙ্গে মোক্ষলাভ করতেন। স্বর্গ পূর্ণ হতে লাগল, নরক শূন্য হল; সৃষ্টির স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বদলে গেল।

শৃঙ্খলা ফেরাতে দেবতারা গয়াসুরের দেহে মহাযজ্ঞ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি সম্মত হয়ে আজকের গয়ার ভূমিতে শুয়ে পড়লেন। তবুও দেহ কাঁপতে থাকায় বিষ্ণু একটি পাথরের ফলকের ওপর চরণ রেখে তাঁকে স্থির করলেন। সেই চরণচিহ্ন ঘিরেই আজকের বিষ্ণুপদ মন্দির।

বিনিময়ে গয়াসুর বর চাইলেন—এই ভূমি যেন শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হয়, যেখানে জীবিতের নিবেদনে প্রয়াতজন মুক্তি পান। বিষ্ণু সেই বর দিলেন। গয়া মাহাত্ম্যে তাই এখানকার পিণ্ডদানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূর্বপুরুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে।

বায়ুপুরাণেই এই গয়া মাহাত্ম্য বর্ণিত। সেই বায়ুপুরাণ থেকে আমাদের নামের প্রেরণা, আর পিতৃকর্মের এই উদ্দেশ্যেই আমাদের আয়োজন।

কী প্রয়োজন, জানান

প্রতিটি আয়োজনে যা থাকে

  • সতেরো দিন ধরে নির্দিষ্ট গয়াওয়াল পাণ্ডাজি
  • 45টি বেদিতে পিণ্ডদান ও নয়টি স্থানে তর্পণ
  • প্রতিদিন প্রতিটি বেদিতে সমস্ত সামগ্রী
  • প্রতিটি নিবেদনে পরিবারের নাম ও গোত্র নিয়ে সংকল্প
  • পুনপুনে প্রবেশশ্রাদ্ধ; সেখানে যাওয়া সম্ভব না হলে গোদাবরীতে
  • সপ্তদশ দিনে অক্ষয়বটে সুফল
  • বোধগয়া ও উত্তরের পাহাড়-সহ সম্পূর্ণ পথে স্থানীয় গাড়ি

গয়ার পাণ্ডাজিরা

যাঁদের তত্ত্বাবধানে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান

পরিচয় ও বংশপরম্পরা যাচাই করা গয়াওয়াল তীর্থপুরোহিতেরা শাস্ত্রবিধি মেনে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করান।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে 1,00,000-এরও বেশি পরিবারের সেবায়

পরিবারের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর

তিন দিনের কর্ম কি বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ নয়?

না। তিন দিনের শ্রাদ্ধ নিজস্ব বিধিতে সম্পূর্ণ এবং অধিকাংশ পরিবার সেটিই করেন। বৃহৎ রূপটি সতেরো দিনের, সব বেদি জুড়ে। তিন দিনের আয়োজনকে বৃহৎ বলা হলে নামটি শিথিল অর্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সতেরো দিনই কি গয়ায় থাকতে হবে?

হ্যাঁ। উত্তরে পুনপুন থেকে দক্ষিণে বোধগয়া পর্যন্ত কর্মস্থলগুলি ছড়িয়ে আছে এবং ক্রম মেনে বিধি চলে। মূলত এই সময়ের প্রয়োজনেই কম পরিবার পূর্ণ দীর্ঘ বিধিটি করেন।

বেদির সংখ্যা কোথাও 45, কোথাও 54 কেন?

পিণ্ডবেদি 45টি, তর্পণস্থল নয়টি। দুটো মিলিয়ে 54। গণনার বিষয় আলাদা বলে দুটি সংখ্যাই সঠিক।

প্রথম দিন পুনপুনে যেতে না পারলে?

গোদাবরীতে প্রবেশশ্রাদ্ধ শুরু হয়। আপনাদের যাত্রা অনুযায়ী কোনটি হবে, পাণ্ডাজি জানাবেন।

শয্যাদান কি এই খরচে অন্তর্ভুক্ত?

না। সপ্তদশ দিনে অনেক পরিবার শয্যাদান করেন, তবে খাট, বস্ত্র ও গৃহস্থালির সামগ্রী পরিবারভেদে আলাদা। তাই তার খরচ পৃথকভাবে জানানো হয়।

সতেরো দিনের বিধি ছোট করা যায়?

তাহলে সেটি আর এই বৃহৎ বিধি থাকবে না। প্রধান বেদিগুলির তিন দিনের শ্রাদ্ধ অথবা ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বটের এক দিনের কর্ম নিজ নিজ বিধিতে সম্পূর্ণ। সতেরো দিনের ক্রম কাটছাঁট করার বদলে উপযুক্ত একটি বেছে নিন।

এখান থেকেই শুরু

কোনও প্রশ্ন থাকলে বলুন, বুঝিয়ে দেব

মা-বাবার উদ্দেশে এই কর্ম আপনাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও বিধি অসম্পূর্ণ রেখে নয়—প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে, আপনাদের সামনেই শাস্ত্র মেনে কর্ম সম্পন্ন হয়। খরচও শুরুতেই জানানো হয়। আগে কথা বলুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

শ্রাদ্ধে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিধিও জরুরি।

শাস্ত্রবিধি মেনে কর্ম সম্পন্ন না হলে শ্রাদ্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যায়—আন্তরিক শ্রদ্ধা থাকলেও।

লিখে জানাতে চান?আপনাদের তথ্য পাঠানসুবিধা হলে এই ফর্মটি পূরণ করুন। শুরু করার জন্য ফোন বা WhatsApp-এ কথা বলাই যথেষ্ট।
কী কী প্রয়োজন জানান (ঐচ্ছিক—যেগুলি দরকার, শুধু সেগুলিই বেছে নিন)

এখনই টাকা দিতে হবে না। আগে ফোন করে আপনাদের প্রয়োজন বুঝে নেব।

+91 77177 85996WhatsApp
বৃহৎ গয়া শ্রাদ্ধ — 17 দিন, 45টি বেদি ও খরচ