চার স্থানে পিণ্ডদান — বিষ্ণুপদ, অক্ষয়বট, ফল্গু ও প্রেতশিলা

চারটি পুণ্যস্থান

চার স্থানে পিণ্ডদান — বিষ্ণুপদ, অক্ষয়বট, ফল্গু ও প্রেতশিলা

ফল্গু, বিষ্ণুপদ ও অক্ষয়বটের সঙ্গে প্রেতশিলার বিশেষ কর্ম—অকালে প্রয়াত আত্মার শান্তিকামনায় চার স্থানের আয়োজন।

খরচ—শাস্ত্রবিধি মেনে পূজা, সমস্ত সামগ্রী ও দক্ষিণা

  • চার স্থানে পিণ্ডদান — বিষ্ণুপদ, অক্ষয়বট, ফল্গু ও প্রেতশিলাপ্রেতশিলার কর্ম-সহ—বিষ্ণুপদ থেকে প্রায় 8 কিমি, গাড়িতে 20–25 মিনিট8,500
ফোনে পরামর্শথাকার ব্যবস্থা করতে সহায়তাগয়ায় স্থানীয় সহায়তা

আনুমানিক সময়—প্রায় অর্ধেক দিন (প্রেতশিলা প্রায় 8 কিমি দূরে)

একটি পরিবারের নিজের কথায়আরও অভিজ্ঞতা পড়ুন

পরিবারের পরিস্থিতি অনুযায়ী পূজার বিধি আলাদা হয়। কোনটি প্রয়োজন, জানতে ফোন করুন।

চার স্থান মিলিয়ে কর্মসূচি

এই ব্যবস্থায় গয়ার চারটি পবিত্র স্থান এক কর্মসূচিতে থাকে—ফল্গুতে তর্পণ, বিষ্ণুপদের চরণচিহ্নে পিণ্ড অর্পণ, অক্ষয়বটের নীচে সুফল এবং প্রেতশিলার বিশেষ কর্ম।

প্রেতশিলার বিশেষ তাৎপর্য

দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা অন্যভাবে অকালে প্রয়াত পূর্বপুরুষের জন্য প্রেতশিলার বিধান রয়েছে। পরম্পরায় তাঁদের প্রেতদশা থেকে মুক্তি ও মোক্ষের পথ উন্মুক্ত করার উদ্দেশে এখানে পিণ্ড অর্পণ করা হয়। শিখরে যমের মন্দির রয়েছে, যা রানি অহল্যাবাঈ হোলকর পুনর্নির্মাণ করেছিলেন।

কখন প্রেতশিলা যোগ করা হয়

হঠাৎ বা অল্পবয়সে মৃত্যু, সেই প্রয়াণের পরে পরিবারের অশান্তি অথবা প্রযোজ্য কর্ম সম্পূর্ণ করার ইচ্ছায় পরিবার চার স্থানের ব্যবস্থা বেছে নেন। প্রয়াণ স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ হলে তিনটি প্রধান স্থানই যথেষ্ট হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পাণ্ডাজি পরামর্শ দেন।

সঠিক ক্রমে, পুরোহিতের তত্ত্বাবধানে

স্থানগুলি গয়ার বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে রয়েছে; বিধিতে নির্দিষ্ট ক্রম আছে। গয়াওয়াল পাণ্ডাজি সমস্ত সামগ্রী-সহ প্রতিটি ধাপ করান। প্রেতশিলায় ওঠার সহায়তা এবং স্থানগুলির মধ্যে গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়।

গয়ার পুণ্যস্থান

গয়ায় যেখানে পিণ্ডদান হয়

বিষ্ণুপদ মন্দির

গয়ার প্রধান মন্দির। গয়াসুরকে স্থির রাখতে বিষ্ণু পাথরে যে চরণ রেখেছিলেন বলে পুরাণকথা, সেই চরণচিহ্নকে ঘিরেই মন্দির। গয়ার পিণ্ডদানে ভগবানের এই চরণে নিবেদন অন্যতম প্রধান কর্ম।

অক্ষয়বট

সীতাদেবীর আশীর্বাদে চিরজীবী বলে পূজিত বটগাছ। এর নীচে শেষ সুফল গ্রহণ না করলে গয়ার পিণ্ডদান অসম্পূর্ণ বলে মানা হয়। কথিত আছে, রামও এখানে দশরথের উদ্দেশে পিণ্ড অর্পণ করেছিলেন।

ফল্গু নদী

সীতাদেবীর পিতৃকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গয়ার পবিত্র নদী। প্রয়াত পূর্বজনের উদ্দেশে জল ও তিল দিয়ে ফল্গুতে তর্পণের মধ্য দিয়ে কর্ম শুরু হয়।

প্রেতশিলা

বিষ্ণুপদ থেকে 8 কিমি উত্তরের পাথুরে পাহাড়। দুর্ঘটনা বা অন্যভাবে অকালে প্রয়াত আত্মার জন্য এখানে কর্ম হয়। ধর্মশিলায় পিণ্ড ও ছাতু নিবেদনে প্রেতদশা থেকে মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

গয়ার পুরাণকথা

বায়ুপুরাণে গয়ার কথা

বায়ুপুরাণের কথায়, অসুর গয়াসুর এমন কঠোর তপস্যা করেছিলেন যে তাঁর দেহই পবিত্র হয়ে উঠেছিল। যাঁরা তাঁকে স্পর্শ করতেন বা তাঁর দেহের ওপর মৃত্যুবরণ করতেন, সঙ্গে সঙ্গে মোক্ষলাভ করতেন। স্বর্গ পূর্ণ হতে লাগল, নরক শূন্য হল; সৃষ্টির স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বদলে গেল।

শৃঙ্খলা ফেরাতে দেবতারা গয়াসুরের দেহে মহাযজ্ঞ করার অনুমতি চাইলেন। তিনি সম্মত হয়ে আজকের গয়ার ভূমিতে শুয়ে পড়লেন। তবুও দেহ কাঁপতে থাকায় বিষ্ণু একটি পাথরের ফলকের ওপর চরণ রেখে তাঁকে স্থির করলেন। সেই চরণচিহ্ন ঘিরেই আজকের বিষ্ণুপদ মন্দির।

বিনিময়ে গয়াসুর বর চাইলেন—এই ভূমি যেন শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদানের শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হয়, যেখানে জীবিতের নিবেদনে প্রয়াতজন মুক্তি পান। বিষ্ণু সেই বর দিলেন। গয়া মাহাত্ম্যে তাই এখানকার পিণ্ডদানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম পূর্বপুরুষের মুক্তির কথা বলা হয়েছে।

বায়ুপুরাণেই এই গয়া মাহাত্ম্য বর্ণিত। সেই বায়ুপুরাণ থেকে আমাদের নামের প্রেরণা, আর পিতৃকর্মের এই উদ্দেশ্যেই আমাদের আয়োজন।

কী প্রয়োজন, জানান

প্রতিটি আয়োজনে যা থাকে

  • চার স্থানেই শাস্ত্রবিধি মেনে পূজা, সমস্ত সামগ্রী ও দক্ষিণা
  • ফল্গুর তর্পণ, বিষ্ণুপদের পিণ্ড, অক্ষয়বটের সুফল ও প্রেতশিলার কর্ম
  • প্রয়াতজনের জন্য প্রেতশিলায় পিণ্ড অর্পণ
  • শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী সমস্ত সামগ্রী
  • চার স্থানের মধ্যে স্থানীয় গাড়ি
  • বয়স্ক সদস্যদের সহায়তা

গয়ার পাণ্ডাজিরা

যাঁদের তত্ত্বাবধানে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান

পরিচয় ও বংশপরম্পরা যাচাই করা গয়াওয়াল তীর্থপুরোহিতেরা শাস্ত্রবিধি মেনে আপনাদের শ্রাদ্ধ ও পিণ্ডদান করান।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে 1,00,000-এরও বেশি পরিবারের সেবায়

পরিবারের সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্নোত্তর

কাদের প্রেতশিলার কর্ম প্রয়োজন?

দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা অকালমৃত্যুর মতো অস্বাভাবিক প্রয়াণে আত্মার প্রেতদশা থেকে মুক্তিকামনায় এই কর্মের বিধান। আপনাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না পাণ্ডাজি নিশ্চিত করবেন।

প্রেতশিলার কর্ম কি সাধারণ পিণ্ডদান থেকে আলাদা?

হ্যাঁ। অকালে প্রয়াত আত্মার মুক্তিকামনায় প্রেতশিলায় বিশেষ পিণ্ড অর্পণ হয়।

চার স্থানের কর্মে কত সময় লাগে?

প্রেতশিলায় ওঠা-সহ সাধারণত একটি পুরো দিন লাগে। পিতৃপক্ষে বাড়তি সময় রাখুন।

পাণ্ডাজি ও গাড়ির ব্যবস্থা কি আপনারা করেন?

হ্যাঁ। পুরোহিতের নির্দেশনা, সামগ্রী এবং চারটি স্থানের মধ্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা যায়।

এখান থেকেই শুরু

কোনও প্রশ্ন থাকলে বলুন, বুঝিয়ে দেব

মা-বাবার উদ্দেশে এই কর্ম আপনাদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও বিধি অসম্পূর্ণ রেখে নয়—প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে, আপনাদের সামনেই শাস্ত্র মেনে কর্ম সম্পন্ন হয়। খরচও শুরুতেই জানানো হয়। আগে কথা বলুন, তারপর সিদ্ধান্ত নিন।

শ্রাদ্ধে শ্রদ্ধার সঙ্গে বিধিও জরুরি।

শাস্ত্রবিধি মেনে কর্ম সম্পন্ন না হলে শ্রাদ্ধ অসম্পূর্ণ থেকে যায়—আন্তরিক শ্রদ্ধা থাকলেও।

লিখে জানাতে চান?আপনাদের তথ্য পাঠানসুবিধা হলে এই ফর্মটি পূরণ করুন। শুরু করার জন্য ফোন বা WhatsApp-এ কথা বলাই যথেষ্ট।
কী কী প্রয়োজন জানান (ঐচ্ছিক—যেগুলি দরকার, শুধু সেগুলিই বেছে নিন)

এখনই টাকা দিতে হবে না। আগে ফোন করে আপনাদের প্রয়োজন বুঝে নেব।

+91 77177 85996WhatsApp
গয়ায় চার স্থানে পিণ্ডদান — প্রেতশিলা-সহ বিধি ও খরচ