২০২৬ সালের শ্রাদ্ধপক্ষের দিনগুলি
এ বছরের তালিকা শুরু হচ্ছে শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বরের ভাদ্র পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ দিয়ে। পিতৃপক্ষের প্রতিপদ পরদিন, ২৭ সেপ্টেম্বর। শেষ দিন শনিবার ১০ অক্টোবর, সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া।
পূর্ণিমাসহ ষোলোটি শ্রাদ্ধতিথি এই পনেরোটি ইংরেজি তারিখের মধ্যে পড়ছে। তালিকায় ৩০ সেপ্টেম্বর চতুর্থী ও পঞ্চমী—দুটি শ্রাদ্ধ রয়েছে।
এটি গয়ায় যাত্রার পরিকল্পনার জন্য দেওয়া তালিকা। শ্রাদ্ধের দিন নির্ধারণে স্থানীয় পঞ্জিকা, অপরাহ্ণে তিথির উপস্থিতি ও পারিবারিক বিধি বিবেচ্য; নিজের দিনটি পুরোহিতের কাছে নিশ্চিত করুন।
| তারিখ | শ্রাদ্ধতিথি | প্রচলিত উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর | পূর্ণিমা | ভাদ্র পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ। পূর্ণিমা তিথিতে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সর্বপিতৃ অমাবস্যা পালনের রীতিও রয়েছে; পরিবারের বিধি নিশ্চিত করুন। |
| রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর | প্রতিপদ | প্রতিপদ তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। কিছু পরম্পরায় মাতামহ-মাতামহীর স্মরণও করা হয়। |
| সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর | দ্বিতীয়া | দ্বিতীয়া তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর | তৃতীয়া ও মহাভরণী | তৃতীয়ার শ্রাদ্ধ এবং ভরণী নক্ষত্রের বিশেষ শ্রাদ্ধ। প্রথম বছরের বিধি সম্পর্কে পুরোহিতের পরামর্শ নিন। |
| বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর | চতুর্থী ও পঞ্চমী | দুটি শ্রাদ্ধ একই তারিখে। কিছু পরম্পরায় পঞ্চমীতে অবিবাহিত প্রয়াতজনকে স্মরণ করা হয়। |
| বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর | ষষ্ঠী | ষষ্ঠী তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| শুক্রবার, ২ অক্টোবর | সপ্তমী | সপ্তমী তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| শনিবার, ৩ অক্টোবর | অষ্টমী | অষ্টমী তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| রবিবার, ৪ অক্টোবর | নবমী বা মাতৃনবমী | মা ও পরিবারের প্রয়াত নারীদের স্মরণের রীতি রয়েছে। অবিধবা নবমীর নির্দিষ্ট বিধি পরিবারভেদে নিশ্চিত করুন। |
| সোমবার, ৫ অক্টোবর | দশমী | দশমী তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর | একাদশী | একাদশী তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তিদের শ্রাদ্ধ। |
| বুধবার, ৭ অক্টোবর | দ্বাদশী ও মঘা শ্রাদ্ধ | দ্বাদশীর শ্রাদ্ধ ও মঘা নক্ষত্রের বিশেষ শ্রাদ্ধ। সন্ন্যাসীদের স্মরণের রীতিও রয়েছে। |
| বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর | ত্রয়োদশী | ত্রয়োদশীর শ্রাদ্ধ। কিছু পরম্পরায় অল্প বয়সে প্রয়াত শিশুদের স্মরণ করা হয়। |
| শুক্রবার, ৯ অক্টোবর | চতুর্দশী | অস্ত্রাঘাত, দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে। চতুর্দশী তিথিতে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ করার বিধি জেনে নিন। |
| শনিবার, ১০ অক্টোবর | সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া | জ্ঞাত ও অজ্ঞাত পূর্বপুরুষের স্মরণ। মৃত্যুতিথি জানা না থাকলে বা শ্রাদ্ধ বাদ পড়লে এই দিনের বিধি সম্পর্কে পরামর্শ নিন। |
তালিকা থেকে নিজের পরিবারের দিন খুঁজবেন কীভাবে
প্রয়াতজনের মৃত্যুতিথি খুঁজুন, শুধু ইংরেজি তারিখ নয়। তিথি অনুযায়ী শ্রাদ্ধের ইংরেজি তারিখ প্রতি বছর বদলায়।
তিথি জানা থাকলে সংশ্লিষ্ট সারি দেখুন। শুধু ইংরেজি তারিখ জানা থাকলে তা থেকে তিথি নির্ণয় করতে হবে। কোনও তথ্যই না থাকলে সর্বপিতৃ অমাবস্যার বিধি সম্পর্কে জেনে নিন।
মাতৃনবমী বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর চতুর্দশীর মতো বিশেষ রীতিও আছে। প্রয়াতজনের সঙ্গে সম্পর্ক বা মৃত্যুর পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনও বিশেষ দিনে শ্রাদ্ধের রীতি থাকলে, সেই দিন ও তাঁর মৃত্যুতিথির মধ্যে কোনটি পালন করবেন তা পুরোহিতের কাছে জেনে নিন।
যে তিনটি ক্ষেত্রে বাড়তি যাচাই দরকার
নবমী শ্রাদ্ধের দিন ৪ অক্টোবর, রবিবার। দৈনিক পঞ্জিকায় সূর্যোদয়ের তিথি দেখে শ্রাদ্ধের দিন স্থির করলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে; শ্রাদ্ধের দিন বেছে নেওয়ার আলাদা নিয়ম রয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার গয়ার এই তালিকায় চতুর্থী ও পঞ্চমী দুই শ্রাদ্ধই রয়েছে। তিথির সন্ধিক্ষণ ও স্থানীয় অপরাহ্ণের হিসাব এখানে গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে পঞ্চমীর দিনটি যাত্রার আগে নিশ্চিত করুন।
২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ হলেও পূর্ণিমা তিথিতে প্রয়াত ব্যক্তির জন্য ১০ অক্টোবর অমাবস্যায় শ্রাদ্ধ করার রীতিও আছে। এই দুই তারিখের মধ্যে কোনটি আপনার পরিবারের জন্য প্রযোজ্য, তা আগে জেনে নিন।
মহাভরণী, মঘা ও অমাবস্যার বিশেষ প্রসঙ্গ
মহাভরণী এই তালিকায় মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর। ভরণী নক্ষত্রের সঙ্গে এর সম্পর্ক; প্রতি বছর একই তিথি বা ইংরেজি তারিখ হবে না। প্রথম বছরের শ্রাদ্ধের ক্ষেত্রে পারিবারিক বিধি বিশেষভাবে জেনে নিন।
মঘা শ্রাদ্ধ বুধবার ৭ অক্টোবর। ধর্মীয় পরম্পরায় মঘা নক্ষত্রকে পিতৃকর্মের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অমাবস্যায় কোনও বিশেষ যোগের কথা শুনলে তার সময় ও গয়ার পঞ্জিকা পুরোহিতের কাছে মিলিয়ে নিন। শুধু একটি যোগের নাম শুনে পরিবারের নির্ধারিত তিথি পরিবর্তন করবেন না।
দিনের কোন সময় আচার হবে
শ্রাদ্ধের তিথি নির্বাচনে অপরাহ্ণের গুরুত্ব রয়েছে। কুতপ, রৌহিণ ও অপরাহ্ণের সময় স্থান ও দিন অনুযায়ী বদলায়; একটিমাত্র ঘড়ির সময় পুরো পক্ষের জন্য ব্যবহার করবেন না।
স্নান, সংকল্প, বেদিতে যাতায়াত ও অপেক্ষা মিলিয়ে দিনের কাজ আরও আগে শুরু হতে পারে। শুধু নিবেদনের সময় ধরে ফেরার টিকিট কাটবেন না; পাণ্ডাজির সঙ্গে পুরো সূচি মিলিয়ে নিন।
পিতৃপক্ষে গয়ায় আসার প্রস্তুতি
পিতৃপক্ষে গয়ায় ভিড় বেশি হয়। সম্ভব হলে নির্ধারিত আচারের আগের দিন পৌঁছান, বিশেষ করে বয়স্ক সদস্য সঙ্গে থাকলে।
যাত্রার আগে তীর্থপুরোহিতকে তিথি, নাম-গোত্র, সদস্যসংখ্যা ও নির্বাচিত আচার জানান। সামগ্রী ও সময় আগে ঠিক থাকলে দিনের প্রস্তুতি সহজ হয়।
মহাভরণী ২৯ সেপ্টেম্বর, মাতৃনবমী ৪ অক্টোবর এবং সর্বপিতৃ অমাবস্যা ১০ অক্টোবরের জন্য আগে থাকার জায়গা ও পুরোহিতের সময় নিশ্চিত করুন।
শুধু কোন তারিখে ছুটি পাবেন তা বললে হবে না; জানা তিথি ও পরিবারের রীতিও জানান। তিথি অজানা হলে অমাবস্যার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করুন।
এই সময় আসতে না পারলেও অন্য সময় গয়াশ্রাদ্ধের ব্যবস্থা করা যায়। তবে নির্দিষ্ট শ্রাদ্ধতিথির বিকল্প এবং তীর্থে পিণ্ডদানের দিন এক বিষয় নয়—পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
বুকিংয়ের আগে নিজের দিনটি নিশ্চিত করুন
তালিকাটি পরিকল্পনার সহায়ক। ব্যক্তিগত মৃত্যুতিথি, প্রথম বছরের আচার এবং পরিবারের বিশেষ বিধি দেখে যিনি অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন, তাঁর সঙ্গে দিনটি মিলিয়ে নিন।
মৃত্যুতিথি জানা থাকলে সেটি জানান; না থাকলে তারিখ, সম্ভব হলে সময় ও স্থান দিন। প্রাথমিক আলোচনার পরেই যাত্রা ও থাকার ব্যবস্থা চূড়ান্ত করুন।